বারোতম দিনে গড়িয়েছে ইসরায়েলের লেবাননের উপর আক্রমণ। আক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকা; বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি ভয়াবহ বিমান হামলার শিকার হয়েছে। বিপরিতে ইসরায়েলের কয়েকটি টার্গেট নির্ধারণ করেও হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম আল-বাইয়াদায় ইসরায়েলের কয়েকজন সামরিক সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় ৩৭ জন নিহত ১৫১জন আহত হয়েছে। এর ভিতরে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ প্রদেশে ১৯ জন শহীদ এবং ৫২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বেকা প্রদেশে ২ জন শহীদ ও ১৪ জন আহত এবং মাউন্ট লেবাননে ২ জন শহীদ ও ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, পূর্ব হাইফার ‘নাশের’ ঘাঁটিতে ফাদি-২ রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ সবসময় আমাদের দেশ ও জনগণের সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকবে এবং শত্রুর অত্যাচার ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে নিজেদের দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হবে না।”
এদিকে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইসরায়েলকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন মনে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়া যথার্থ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন এই পদক্ষেপে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মোটকথা: লেবানন জুড়ে এই আক্রমণ ও প্রতিরোধের দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। এবং সেখানে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: আল আরাবি আল জাদিদ