দায়েশের হামলায় তালেবান নেতার শাহাদাতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

দায়েশের হামলায় তালেবান নেতার শাহাদাতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
শহিদ তালেবানের বিশিষ্ট নেতা এবং শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী হাজী খলিলুর রহমান হাক্কানি। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সন্ত্রাসী দায়েশের একটি আত্মঘাতী হামলায় শহিদ হয়েছেন তালেবানের বিশিষ্ট নেতা এবং শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী হাজী খলিলুর রহমান হাক্কানি। ঘটনাটি ঘটেছে আফগান শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের মসজিদে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন সঙ্গীও শহিদ হন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।

হাক্কানি পরিবারের ত্যাগ

হাজী খলিলুর রহমান হাক্কানি ছিলেন আফগানিস্তানের জিহাদি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি সোভিয়েত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মার্কিন দখলদারের বিরুদ্ধেও তিনি জিহাদ চালিয়ে যান। তার পরিবার—যা হাক্কানি নেটওয়ার্ক নামে পরিচিত—বিগত কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তানের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে আসছে।

হাজী খলিলুর রহমান ছিলেন তালেবানের বিখ্যাত নেতা প্রয়াত জালালুদ্দিন হাক্কানির ছোট ভাই এবং বর্তমান তালেবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির চাচা। এই পরিবার ইতিমধ্যেই ৫০ জনের বেশি সদস্যকে লড়াইয়ের ময়দানে হারিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

গত বুধবার শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের মসজিদে জোহরের নামাজের সময় সন্ত্রাসী দায়েশের সদস্য একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মসজিদেই শহিদ হন হাজী খলিলুর রহমান হাক্কানি। হামলার পরপরই দায়েশ এর দায় স্বীকার করে।

দায়েশের এ ধরনের হামলা আফগানিস্তানে নতুন নয়। দেশটির মসজিদ, মাদ্রাসা ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এর আগেও তারা একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলা একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং হাক্কানী পরিবারের উপর হওয়ায় তা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও সৌদি আরব এই হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে নিন্দা জানিয়েছে। তুরস্ক ও ইরান এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আফগান জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হাক্কানি পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। তাঁরা ইসলামের জন্য প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছে!’

আফগান সরকারের প্রতিক্রিয়া

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই হামলাকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। আফগান শীর্ষ নেতৃত্ব দায়েশের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসী দায়েশ মূলত আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং আফগান প্রশাসনকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসময় হাজী খলিলুর রহমানের মাথার জন্য ৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তাই এই হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইসলামি স্কলারদের প্রতিক্রিয়া

বিশ্বব্যাপী ইসলামি চিন্তাবিদগণ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ড. আলি আল কারা দাগি বলেছেন, ‘হাজী খলিলুর রহমান ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান নেতা। তার মৃত্যু আফগানিস্তানের জন্য এক বড় ক্ষতি।’

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. মোহাম্মদ আস সগির বলেছেন, ‘দায়েশ মসজিদে মুসলিমদের হত্যা করছে! এটি তাদের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরছে। এটি তাদের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপের একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।’

হাজী খলিলুর রহমান হাক্কানির হত্যাকাণ্ড দায়েশের ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রকে আরও একবার সামনে এনেছে। তবে হাক্কানি পরিবার এবং আফগান জনগণ তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আমাদের ফলো করুন