বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির সন্ত্রাসী তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সুড়ঙ্গ কেটে চট্টগ্রামমুখী কার্যক্রম শুরু করেছে এই মগ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে ভারতের, বিশেষত হিন্দুত্ববাদী শক্তির।
সম্প্রতি মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটার এলাকা দখল করে আরাকান আর্মি এখন পূর্বের চেয়ে অধিক তৎপর রয়েছে। মিয়ানমারের মংডু থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ঘাঁটি দখল করে আরাকান আর্মি বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় সুড়ঙ্গ কেটে চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে।
ষড়যন্ত্রে ভারতের ভূমিকা
ভারত, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত প্রশাসন সন্ত্রাসী আরাকান আর্মিকে অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সহায়তার উদ্দেশ্য শুধু আরাকান আর্মিকে শক্তিশালী করাই নয়, বরং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিন্দুত্ববাদী ভারতের এই পরিকল্পনা বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করার এক নিকৃষ্ট অপচেষ্টা।
এদিকে আরাকান আর্মির সুড়ঙ্গ ব্যবস্থাকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার এক নতুন উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাফ নদীর তলদেশ থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা এই সুড়ঙ্গগুলো অস্ত্র সরবরাহ এবং সন্ত্রাসী প্রবেশ নিশ্চিত করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা যদি বন্ধ করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে আরাকান আর্মি সরাসরি চট্টগ্রামের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করবে।
বিশ্লেষকগণ বলছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কূটনৈতিকভাবে ভারতের এই ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করার পাশাপাশি সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তবে হিন্দুত্ববাদী অপশক্তির প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে থাকলে প্রতিবেশী সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে এখনই শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রাম অঞ্চলকে লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা এই ষড়যন্ত্র আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।