তুরস্ক-সিরিয়া বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিরিয়া

তুরস্ক-সিরিয়া বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিরিয়া
তুরস্ক-সিরিয়া বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান এবং বাথ পার্টি ও আসাদ পরিবারের ৬১ বছরের শাসনের পতনের পর দেশটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়া এলাকা শিল্প ও বাণিজ্যে শক্তিশালী একটি অঞ্চল। এটিই সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়া রপ্তানিকারক ইউনিয়নের তথ্য অনুসারে, ২০১০ সালে সিরিয়ায় এ অঞ্চল থেকে ২২৪.৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯৪.৫ মিলিয়ন ডলারে।

ইউনিয়নের সভাপতি আহমেত ফিকরেত কিলিচি বলেন, ‘সিরিয়ায় যুদ্ধের অবসান এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাজিয়ানতেপ ও আলেপ্পোর মতো শহরগুলো দুই দেশের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের উজ্জ্বল উদাহরণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সিরিয়ায় তুর্কি পণ্যের রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এবং তুরস্ক এই সহযোগিতায় মূল অংশীদার হতে প্রস্তুত।’

আহমেত ফিকরেত কিলিচি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়ার শিল্প বৈচিত্র্য এবং উৎপাদন সক্ষমতা সিরিয়ার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তুরস্ক সিরিয়ার এমন একটি অর্থনৈতিক অংশীদার হবে, যা সিরিয়ার বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।’

তুরস্কের শস্য, ডাল ও তৈলবীজ রপ্তানিকারক ইউনিয়নের সভাপতি জেলাল কাদিওগ্লু জানান, ২০২৪ সালে এ খাত থেকে সিরিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে এই রপ্তানি ৬০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিরিয়ার বাজারে তুর্কি পণ্যের চাহিদা সবসময়ই বেশি। নতুন পরিস্থিতি কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে হাটায়, গাজিয়ানতেপ ও শানলিউরফার ব্যবসায়ীরা সিরিয়ার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন তুরস্ক ও সিরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। সিরিয়ার পুনর্গঠনে তুরস্কের ভূমিকা শুধু বাণিজ্য নয়, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি গড়ে তুলবে।

আমাদের ফলো করুন