সম্প্রতি ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় নিয়ে চলমান আলোচনায় নজিরবিহীন অগ্রগতি হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি পত্রিকা ইসরায়েল হাইয়োম জানিয়েছে, আলোচনা শেষ হতে পারে ২৫শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইহুদি উৎসব হানুকার মধ্যেই। তবে চুক্তির প্রধান বাধা হলো, উভয় পক্ষের মধ্যে মুক্তি পাওয়া বন্দিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ।
ফিলিস্তিনি বন্দী
এদিকে ইসরায়েলি কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে হামাস দাবি করেছে, তাদের কাছে ১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে। তবে তাদের মাঝে অনেকে ইসরায়েলিদের এলোপাতাড়ি হামলায় মারা গেছে। বিশ্লেষকগণ বলছেন, আলোচনা সফল হলে উভয় পক্ষের বন্দি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
হামাসের বক্তব্য
হামাস এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও আগেই জানিয়েছে, তারা চুক্তি করতে প্রস্তুত। তবে তাদের শর্ত হলো, গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব শর্ত মানতে রাজি নন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি আলোচনায় বসতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছেন।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও নারী। খাদ্য সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে।
বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, এই সপ্তাহটি আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের শর্ত মানার উপর।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি







