হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের মেটুলা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের মেটুলা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের মেটুলা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

লেবানন সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি শহর মেটুলা হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে হিজবুল্লাহ প্রায় ১,৬০০ রকেট ও ৪৫০টি অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে শহরের ৪৫০টি ভবনের মধ্যে ২১০টি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বা বিস্ফোরণের শার্পনেলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হিজবুল্লাহর হামলায় শহরের সড়ক, বিদ্যুৎ, পানির পাইপলাইন ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি কৃষিজমি ও বাগানও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর শহরের বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করতে গেলে এসব দৃশ্য সামনে আসে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় মেটুলার ১,৬৫০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রথমদিকে তাদের একটি বড় অংশ টিবেরিয়াস শহরের তিনটি হোটেলে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা দেশজুড়ে ২০০টি শহরে অবস্থান করছেন।

শহরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা দোরোন মানু জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে মেটুলার প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দা তাদের বাড়ি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উত্তর ইসরায়েলের অনেক শহরের বাসিন্দারাই বাড়ি ফিরতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। কারণ, তারা চান সরকার আগে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করুক।

উল্লেখ্য, গত ৮ই অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। গত ২৭শে নভেম্বর একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে।

এদিকে বর্বর ইসরায়েলের আগ্রাসী হামলায় লেবাননে ৪,০৬১ জন নিহত ও ১৬,৬৫৬ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। এ সংঘাতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গত ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ২৭শে নভেম্বরের মধ্যে তারা ১,৬৬৬টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে ১৩০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত ও ১,২৫০ জন আহত হয়। পাশাপাশি ৭৬টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে।

আমাদের ফলো করুন