ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না: চরম ডানপন্থী মন্ত্রী

ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না: চরম ডানপন্থী মন্ত্রী
দখলদার ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ঘোষণা করেছেন, তেলআবিব কখনোই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিবে না। আজ মঙ্গলবার এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে স্মোট্রিচ বলেন, আমরা আমাদের দেশের প্রতিটি অংশে আমাদের দখল আরও সুসংহত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি!

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আরবদের গোষ আতসিয়ন (গোষ আতসিয়ন হল একটি ইহুদি বসতি ব্লক, যা পশ্চিমতীরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত) এবং জেরুজালেমকে বিভক্ত করতে দেব না এবং এমন কোন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেব না, যা এখানে আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

এর আগে চলতি বছরের গত ৬ই ডিসেম্বর স্মোট্রিচ ঘোষণা দেন, পশ্চিমতীরের ২৪ হাজার ডুনাম (প্রায় ৬ হাজার একর) ভূমি দখল করে সেটিকে ‘রাষ্ট্রের জমি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি চ্যানেল ১৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জমি দখলের ঘটনা। মূলত এই জমি দখলের লক্ষ্য হলো পশ্চিমতীরের কিছু এলাকায় তাদের নতুন করে বসতি সম্প্রসারণ করা।

এদিকে গত জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) রায়ে বলেছিল, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে এবং ইসরায়েলের বসতি স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করতে উচিত। আদালত আরও জানায়, পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে একটি অখণ্ড অঞ্চল হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

আদালত ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে কার্যত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযুক্তি হিসেবে অভিহিত করে জানায়, পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি আইন প্রয়োগের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য, গাজায় চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিমতীরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের অভিযান তীব্র করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৩ জনে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন।

অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের পরিচালিত যুদ্ধকে বিশ্লেষকরা ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এছাড়াও ১১ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

চরম খাদ্য সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের কারণে ইতোমধ্যেই বহু শিশু ও বৃদ্ধ মারা গেছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট বলে বর্ণনা করেছে, কিন্তু অজানা কারণে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না।

আমাদের ফলো করুন