২০ দিন আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা থামেনি। গত মঙ্গলবার ১৭ই ডিসেম্বর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আরও ১২টি হামলা চালায়। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোট লঙ্ঘনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৮ এ। বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩০জন নিহত এবং ৩৬জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবারের হামলাগুলো মূলত দক্ষিণ লেবাননের টাইর, নাবাতিয়ার মেরজাইউন ও হাসবাইয়া এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেকা প্রদেশের রাশাইয়া ও পশ্চিম বেকায় ঘটে। হামলার মধ্যে ড্রোন হামলা, বাড়িঘর ধ্বংস, রাস্তা ভেঙে ফেলা এবং কামানের গোলাবর্ষণ উল্লেখযোগ্য।
টাইর জেলায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে বর্বর ইসরায়েল একটি ড্রোন হামলা চালালে দুই ব্যক্তি আহত হন। এছাড়া নাকুরা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস এবং রাস্তা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি সেনারা। হাসবাইয়া ও মেরজাইউনে কামানের গোলাবর্ষণ ও অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, লেবাননে গত ২৭শে নভেম্বর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধের উদ্দেশে নেওয়া হয়। এর আগে গত ৮ই অক্টোবর শুরু হওয়া সংঘর্ষ ২৩শে সেপ্টেম্বর একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এই ক্রমাগত লঙ্ঘনের কারণে ২রা ডিসেম্বর হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা কফর শুবা অঞ্চলের একটি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় রকেট হামলা চালায়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল ধাপে ধাপে দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সরে যাওয়ার কথা। এছাড়া লেবাননের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে কেবল লেবাননের সেনারাই অস্ত্র বহন করতে পারবে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪,০৬১ জন নিহত এবং ১৬,৬৬১ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন। এছাড়া এই সংঘর্ষের কারণে ১৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি







