রাশিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনে চালানো রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের এক বছরে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এক মিলিয়নের বেশি হতাহত হয়েছে। একই সাথে প্রায় ২০ হাজার ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
গতকাল আরটি অ্যারাবিক–এ দেওয়া এক বক্তব্যে গেরাসিমভ বলেন, ২০২৪ সালে রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনের ১৯০টির বেশি বসতি দখল করে। এছাড়া প্রায় ৪.৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় রুশ বাহিনী।
গেরাসিমভের দাবি, ৩০টির বেশি দেশ মিলে ইউক্রেনকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ডেনমার্ক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও জানান, ন্যাটোর প্রশিক্ষণে ১ লাখ ৬৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুত করা হয়েছে।
গেরাসিমভ বলেন, রাশিয়ার অগ্রগতিতে বাধা দিতে গত আগস্টে ইউক্রেন সরকার রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালায়। তবে রুশ সেনারা সেই হামলা প্রতিহত করেছে।
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী ও বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের আক্রমণ রুশ বিমান হামলা এবং আর্টিলারির সাহায্যে প্রতিহত করা হয়েছে।’
গেরাসিমভ বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাপক সহায়তা সত্ত্বেও ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ারই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমরা পুরো ফ্রন্টজুড়ে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছি। এদিকে ইউক্রেনের দখল করা এলাকাগুলো থেকে তাদের বাহিনী ও বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের হটাতে রুশ সেনাবাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এমন তথ্যের ভিত্তিতে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রমাণে নানা দাবি করে থাকে।
সূত্র: আরটি অ্যারাবিক