পাকিস্তান এমন দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডেও আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন ফাইনার।
ওয়াশিংটনে কার্নেগি ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশনে বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে ফাইনার বলেন, পাকিস্তানের এই কার্যক্রম তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। তিনি আরও বলেন, খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদীয়মান হুমকি ছাড়া অন্য কিছু ভাবা কঠিন।
জন ফাইনারের মতে, পাকিস্তান উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা করছে, যার মধ্যে বৃহৎ আকারের রকেট ইঞ্জিনের পরীক্ষা করার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, পৃথিবীতে খুব কম দেশই পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। এসব দেশ সাধারণত শত্রুভাবাপন্ন হয়ে থাকে, যেমন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
এই বক্তব্যের ঠিক একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, তাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভারতের মতো পরমাণু শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল।
এর আগে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র চারটি বিদেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পটভূমি
পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে ‘শাহীন’ অন্যতম। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে পাকিস্তান সপ্তম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বুলেটিন অফ দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস’ অনুমান করেছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে বর্তমানে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা