নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণ তেল ও গ্যাস না কেনে, তবে তাদের রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন এক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এটি তার নির্বাচনের পর থেকে বাণিজ্য নিয়ে দেওয়া প্রথম বড়সড় মন্তব্য। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়ে দিয়েছি, তাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কিনতে হবে। অন্যথায় শুল্ক আরোপ করাই একমাত্র পথ।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক এবং একই সঙ্গে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিতে ইউরোপের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপ বর্তমানে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, এবং সেই জায়গায় মার্কিন এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে, বাইডেন প্রশাসনের এক সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রপ্তানি বাড়ালে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনসহ অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত খরচ বিশ্লেষণ করে সতর্ক করেছে যে, এই রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে কার্বন নির্গমনের মাত্রা বাড়বে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেছেন, আমরা এখনও রাশিয়া থেকে প্রচুর গ্যাস নিচ্ছি। তবে সেই গ্যাস যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে তা সস্তা হবে এবং আমাদের জ্বালানির দাম কমবে।
তবে ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়ন সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হলে এটি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য, বিশেষ করে ব্রিটেন ও ইইউ’র জন্য, মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমদানি করা এলএনজির প্রায় ৪৮ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং মাত্র ১৬ শতাংশ রাশিয়া থেকে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইইউ’র তেলের চাহিদার ১৫ শতাংশ পূরণ করছে।
ট্রাম্পের হুমকির বিষয়ে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ডেভিড অক্সলি বলেছেন, ট্রাম্পের দাবিটি ইইউর জ্বালানি আমদানির কৌশলের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউরোপ এখন রাশিয়ার গ্যাস থেকে দূরে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস ব্যবহার করতে চায়। ফলে এই হুমকি বাস্তবে ইইউ’র জন্য তেমন কোনো সমস্যা তৈরি করবে না।
এছাড়া, বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের দাম কমে আসবে।
ট্রাম্প এর আগেও বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ২০১৮ সালে, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে ইইউর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিন ক্লদ জাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন ডলারের পণ্য, বিশেষ করে গ্যাস কেনার চুক্তি করেছিলেন।
তবে এবার ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, কানাডা, মেক্সিকো ও চীন থেকে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করবেন, যদি এই দেশগুলো অভিবাসন ও মাদক পাচার রোধে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে একজন মার্কিন নাগরিককে বছরে প্রায় ২,৪০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে।
সূত্র: আরটি অ্যারাবিক