বাংলাদেশের বন্ধ হওয়া ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালুর মাধ্যমে চিনি আমদানির উপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব কারখানা চালুর ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ভারতের চিনির উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমে যাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
২০২০ সালে লোকসানের অজুহাতে কুষ্টিয়া, রংপুর, শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, পঞ্চগড় ও পাবনা চিনিকল বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার। এর পর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় চিনি আমদানির প্রবাহ বাড়তে থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের চিনি আমদানি করে বাংলাদেশ, যা দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলোর ফলে বেকার হয়ে পড়ে হাজারো শ্রমিক। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অথচ একসময় এই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোই বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টন চিনি উৎপাদন করে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখত।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। ১৭ই ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয় ৬টি চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রথম পর্যায়ে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ, দ্বিতীয় পর্যায়ে পঞ্চগড় ও পাবনা এবং তৃতীয় পর্যায়ে কুষ্টিয়া ও রংপুর চিনিকল চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের চিনি উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। এতে চিনি আমদানির উপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং দেশীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
চিনিকলগুলো চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং দেশের চিনি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভারতের চিনির উপর নির্ভরতা কমায় এই খাতেও বাংলাদেশের স্বাধীন অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







