দখলদার ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সাবেক সদস্য সম্প্রতি ‘হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি গোপন অভিযানের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। সিবিএস চ্যানেলের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে মুখোশ পরা ও কণ্ঠ পরিবর্তিত অবস্থায় তারা জানান, এই মিশনে ওয়াকিটকি ও পেজার ডিভাইস ব্যবহার করে তিন মাস আগে হিজবুল্লাহর সদস্যদের টার্গেট করা হয়।
অভিযানের সূচনা
এজেন্টদের একজন জানান, এই অভিযান শুরু হয়েছিল ১০ বছর আগে। সে সময় হিজবুল্লাহ অজান্তেই ইসরায়েল থেকে ওয়াকিটকি ডিভাইস কিনছিল! সেখানে গোপনে বিস্ফোরক বসানো ছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার এই ডিভাইসগুলো বিস্ফোরিত হয়।
অপারেশনের নেতৃত্বদানকারী এজেন্ট-যাকে ‘মাইকেল’ নামে উল্লেখ করা হয়- তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কৃত্রিম জগত তৈরি করেছিলাম।’
অপারেশনের দ্বিতীয় ধাপ
অপারেশনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয় ২০২২ সালে, যখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জানতে পারে, হিজবুল্লাহ একটি তাইওয়ান ভিত্তিক কোম্পানি থেকে পেজার কিনছে। অন্য এক এজেন্ট-যার ছদ্মনাম ‘গ্যাব্রিয়েল’-তিনি জানান, পেজারগুলোকে সামান্য বড় করা হয়েছিল যাতে এর ভেতরে বিস্ফোরক বসানো যায়।
বিশেষ রিংটোন
তিনি আরও বলেন, ‘এতটুকু পরিমাণ বিস্ফোরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে শুধু ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের লোকজন নিরাপদ থাকে।’ এমনকি পেজারের রিংটোনও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে তা ইমার্জেন্সি মনে হয় এবং ব্যবহারকারী দ্রুত ডিভাইসটি বের করে।
ভুয়া বিজ্ঞাপন
গ্যাব্রিয়েল আরও জানান, বড় পেজার ব্যবহারে হিজবুল্লাহকে রাজি করাতে দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এ জন্য ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়, যেখানে পেজারগুলোকে ধুলো এবং পানিরোধী এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিযুক্ত বলে প্রচার করা হয়।
অপারেশনের সময় ভুয়া কোম্পানি ব্যবহার করা হয়, যার একটি ছিল হাঙ্গেরি ভিত্তিক। এই কোম্পানি তাইওয়ানের গোল্ড অ্যাপোলো নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে ইসরায়েলের হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে হিজবুল্লাহ কখনোই বুঝতে পারেনি যে, তারা ইসরায়েলের সাথে সংযুক্ত একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ডিভাইসগুলো কিনছে।
সূত্র: এপি