কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গত রোববার চৌদ্দগ্রামের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, কানুকে কয়েকজন ব্যক্তি গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করছেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
৭৮ বছর বয়সী আবদুল হাই আওয়ামী লীগের কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক সহসভাপতি। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে এবং অতীতে তিনি প্রতিপক্ষদের ওপর নির্যাতন ও জুলুম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পরিবার ও স্থানীয়দের মতে, লাঞ্ছনাকারীরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী।
আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে অপমান করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিচার চাই।’ অন্যদিকে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের কোন সদস্য জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে!
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী কোন অভিযোগ করতে রাজি নন। তবে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধার লাঞ্ছনা নিন্দা করেছেন। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হওয়া কি অপরাধ ঢেকে দেওয়ার সুযোগ? অভিযোগ রয়েছে, অতীতে আবদুল হাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির আড়ালে প্রতিপক্ষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
এ ঘটনা তদন্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তবে এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কানুর অতীত কার্যকলাপ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।







