৬১ বছর ধরে সিরিয়ায় ক্ষমতায় থাকা বাথ পার্টি ও ৫৩ বছরের আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান ঘটেছে। গত ৮ ডিসেম্বর রাজধানী দামেস্কে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দেশটিতে নতুন অধ্যায়। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি যেন নতুন করে মুক্তির স্বাদ পাচ্ছে।
আসাদ শাসনামলে বিদেশি মুদ্রার ব্যবহার ছিল গুরুতর অপরাধ। এর শাস্তি হিসেবে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা পর্যন্ত হতে পারত। তবে নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে বিদেশি মুদ্রার কেনাবেচার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ৩০০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দামেস্কে ব্যাংকগুলো পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে। শহরের এটিএম বুথগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ মানুষের সারি।
আসাদের শাসনামলে সামান্য ৩৫ ডলারের বেতনে সেনারা জীবিকা নির্বাহ করতে না পেরে মাফিয়া কায়দায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করত। আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা সম্ভব ছিল কেবল কালোবাজার থেকে।
ঘুষ ও চাঁদাবাজির কারণে দ্রব্যমূল্য সবসময় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে নতুন প্রশাসনের অধীনে মুদ্রা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ সহজতর হওয়ায় এবং আমদানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দামেস্কের ঐতিহাসিক হামিদিয়া বাজারে এখন নতুন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। দোকানের জানালায় ঝুলছে ‘ডলার, ইউরো ও তুর্কি লিরা বিনিময় করা যায়’ লেখা সাইনবোর্ড।
আসাদের শাসনামলে বিদেশি মুদ্রা বহন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। কেউ মুদ্রা বিনিময় করতে গেলে সবসময় আতঙ্কে থাকত। তবে নতুন প্রশাসনের অধীনে সেই ভয় কেটে গেছে।
হামিদিয়া বাজারের অন্যতম প্রাচীন আইসক্রিম দোকান ‘বাকদাশ’ এর পরিচালক ওসাম বাকদাশ জানান, আসাদ সরকারের সময় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যবসা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন সুখী থাকে, তখন কেনাকাটা করে। কিন্তু আতঙ্ক থাকলে তারা কিছুই কিনতে চায় না।’
৮ ডিসেম্বরের পর পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবকিছু পরিবর্তন হয়েছে—অর্থনীতি, মানুষের নিরাপত্তা এবং তাদের মুখাবয়ব। আগে সবাই বিষণ্ন মুখে থাকত, এখন তারা হাসিমুখে বাজারে আসছে।’
তিনি আরও জানান, নতুন মুদ্রা ব্যবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই দ্রব্যমূল্যে পড়েছে। ‘চিনি, সসার মতো পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। আগে ময়দা, চিনি, পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস—সবকিছুই সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারা মনমতো দাম নির্ধারণ করত এবং সাধারণ মানুষকে তা কিনতে বাধ্য করত। এখন সেই শোষণ বন্ধ হয়েছে।’
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি