আজ ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ঘোষিত ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। আয়োজকদের দাবি, এ ঘোষণাপত্র হবে ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক দলিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগকে ‘বেসরকারি’ আখ্যা দেওয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ঘোষণাপত্রের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ ও সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবনা নিয়ে একটি কমিশন গঠন করেন।
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানই প্রমাণ করে মানুষ ১৯৭২ সালের সংবিধানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি এবার তাদের দাবিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে নতুন পথে এগোতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, তা সংবিধানের প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতারই প্রতিফলন। এই ঘোষণাপত্র সেই আকাঙ্ক্ষাকে দালিলিক স্বীকৃতি দেবে।’
সরকারের অবস্থান
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই কর্মসূচিকে একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম বলেন, ‘এটি একটি প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ। সরকারের সঙ্গে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।’
এ ধরনের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা। তারা মনে করেন, সরকার তাদেরই আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ফলে এমন বক্তব্য অযাচিত ও মর্মাহত করার মতো।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিকোণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঘোষণাপত্রের এই কর্মসূচি নিয়ে বিভাজন ও বিতর্ক স্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “সরকারের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এমনকি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও নড়বড়ে হয়ে গেছে।”
অন্যদিকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুতর বিষয় আন্দোলনের শুরুর সময় আলোচনায় ছিল না। এখন এমন নতুন দাবি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’
ভবিষ্যতের গুরুত্ব কতটা?
বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষণাপত্রে কী থাকবে, তাই নির্ধারণ করবে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব। যদি এটি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এটি জাতীয় রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হতে পারে। তবে সংশয়ও রয়েছে যে, সংগঠনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টাটি সফল হবে কিনা।







