উত্তর প্রদেশের মিরাঠে ১৬৮ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। দিল্লি রোডে অবস্থিত এই মসজিদটি রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (আরআরটিএস) করিডোর নির্মাণের অজুহাতে ধ্বংস করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি কড়া পুলিশি পাহারায় এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থেই মসজিদটি ভাঙা হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, এটি হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনেরই আরেকটি উদাহরণ। এসবের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে।
যোগী আদিত্যনাথের সরকার এই ধ্বংসযজ্ঞের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, দ্রুতগতির রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মসজিদটি সরানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারতের অনেক এলাকায় বড় বড় অবৈধ মন্দির ও হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা সরকারি জমিতে দখল করে থাকলেও সেগুলো কখনোই বুলডোজারের মুখে পড়ে না। অথচ মুসলিমদের শতবর্ষী ধর্মীয় স্থানগুলো উন্নয়নের অজুহাতে একের পর এক গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সিটি, এনসিআরটিসি প্রতিনিধি এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের মধ্যে এক বৈঠকের পর মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
তবে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধি হাজি সালেহিন জানান, মসজিদটির ১৮৫৭ সালের দলিল ছিল, যা প্রমাণ করে এটি ১৬৮ বছরের পুরোনো। অথচ প্রশাসন এটিকে মাত্র ৮০ বছরের পুরোনো বলে দাবি করছে, যা মসজিদের গুরুত্ব খাটো করার ষড়যন্ত্রের অংশ।
মিরাঠের এই মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মুসলিমদের অভিযোগ, উত্তর প্রদেশসহ সারা ভারতে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে মুসলিম স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
৯ ফেব্রুয়ারি একইভাবে হাটা নগরের মাদনি মসজিদও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ভেঙে ফেলা হয়।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, উত্তর প্রদেশ সরকার মুসলিমদের ঐতিহ্য মুছে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে। মুসলিমরা যখনই তাদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করতে চায়, তখনই সরকার উন্নয়নের অজুহাতে মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনা করে।
ভারতে মুসলিমদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকেই হিন্দুত্ববাদীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম স্থাপনার ওপর আঘাত হানতে শুরু করেছে। মিরাঠের মসজিদ ধ্বংস সেই ষড়যন্ত্রেরই সর্বশেষ উদাহরণ।
স্থানীয় মুসলিমগণ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
এভাবে চলতে থাকলে ভারতের মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।
সূত্র: এমএম