শৌচাগারে মুঘল সম্রাটদের ছবি লাগিয়ে লাথি, বিতর্কের ঝড় ভারতে

ভারতের উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ও বাবরের ছবি শৌচাগারের দেয়ালে লাগিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটে হাপুর জেলার পিলখুয়া শহরে, যেখানে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রকাশ্যে ছবিগুলোকে লাথি মেরে অবমাননা করে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া স্কার্ফ পরিহিত একদল ব্যক্তি শৌচাগারের দেয়ালে মুঘল সম্রাটদের ছবি লাগাচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করছে। তারা জানায়, শৌচাগারের নতুন নামকরণ করা হয়েছে, যা মুঘল শাসকদের প্রতি তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই উগ্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে এবং এর আগেও বিভিন্ন স্থানে মুঘল ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুঘলবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে। কয়েকদিন আগেই দিল্লির আকবর রোডের সাইনবোর্ডে থুতু ফেলার ও তাতে প্রস্রাব করার ঘটনা ঘটে, পরে সেখানে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের পোস্টার লাগানো হয়।

উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে মুঘলদের নামযুক্ত স্থান, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রবণতাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ করেছে, আর মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গাবাদের নাম বদলে রাখা হয়েছে ছত্রপতি সম্ভাজি নগর।

হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, তারা ভারতের ‘প্রকৃত ঐতিহ্য’ পুনরুদ্ধার করছে এবং মুঘল শাসকদের বিদেশি আক্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বলিউড সিনেমা ছাওয়া-তে আওরঙ্গজেবকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করার পর মুঘলবিরোধী প্রচারণা আরও তীব্র হয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর কৌশল। ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বর্তমানের মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘলরা ভারতের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের অবদান অস্বীকার করা একধরনের ঐতিহাসিক বিকৃতি।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও তীব্র করবে। বিশেষ করে, যখন সরকার ও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তখন এসব গোষ্ঠী আরও উৎসাহিত হচ্ছে।

ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত না করে, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি করাই সবার জন্য কল্যাণকর হবে।

আমাদের ফলো করুন