মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু শহরে পুরোনো সড়ক ব্যবহারকারী গ্রামবাসীদের থেকে চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। একই সাথে তাদের চলাচলের ওপর নজরদারি ও তথ্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মংডুর কিয়াউত লিগার বাজার থেকে হ্লাফো কাউং উদ্ধারকেন্দ্র পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় গ্রামবাসীরা বিকল্প হিসেবে পুরোনো সড়ক ব্যবহার করছেন। এই সুযোগে সন্ত্রাসী আরাকান আর্মি সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে চাঁদা আদায় শুরু করেছে।
এক প্রতিবেদনে আরাকান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গ্রামবাসীদের থেকে যাতায়াতের সময় নাম নিবন্ধন করতে বলা হচ্ছে। ফেরার সময় দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ও সামগ্রী। যেমন, প্রত্যেক যাত্রীর থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা এবং ২ হাজার থেকে ৫ হাজার কিয়াত মূল্যের সিগারেট ও পানপাতা।
সূত্রমতে, সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির হ্লাফো কাউং চেকপোস্ট, নাইমাই অফিস ও উত্তর নাইমাই গেট—এই তিনটি স্থানে এসব চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা এমনিতেই নানা সংকটে দিন পার করছেন, তার ওপর নতুন এই চাপ তাদের আরও বিপাকে ফেলেছে।
এর আগে মংডু শহর দখলে নেওয়ার পর সন্ত্রাসী আরাকান আর্মি স্থানীয় রোহিঙ্গাদের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। রোহিঙ্গা শিশুদের বলপূর্বক শ্রমে নিয়োগ, দোকানপাট ও গবাদিপশুর ওপর অতিরিক্ত কর, কৃষিপণ্য জোরপূর্বক দখল এবং যানবাহন বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
এছাড়া পরিবারভিত্তিক নাগরিক তালিকা তৈরির নামে কঠোর নজরদারি ও জোরপূর্বক রোহিঙ্গাদের সৈন্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টাও চালাচ্ছে সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীটি। পাশাপাশি স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতাদের বাধ্য করা হচ্ছে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করতে।
উল্লেখ্য, মংডুতে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত উত্তেজনা ও সহিংসতা চলমান। আরাকান আর্মির এ ধরনের দমনমূলক নীতি সেখানে বসবাসরত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: এএনএ







