মুম্বাইয়ে রাম নবমীর মিছিলে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

মুম্বাইয়ে রাম নবমীর মিছিলে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ
মুম্বাইয়ে রাম নবমীর মিছিলে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

গত রোববার ভারতের মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাহিরে রাম নবমী উপলক্ষে বের হওয়া মিছিলে মুসলিমদের লক্ষ্য করে ঘৃণ্য ও উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে ‘আওরঙ্গজেব কি কবর খোদেগি’ (আওরঙ্গজেবের কবর খোঁড়া হবে) ইত্যাদি স্লোগান দেয়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এই দৃশ্য দেখা যায়।

সেই সাথে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়ে গানও গাওয়া হয় মিছিলে। এই ঘটনা দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই স্লোগান শুধুমাত্র মুসলিমদের উত্ত্যক্ত করার জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

সাংবাদিক রানা আইয়ুব এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দোহাই দিয়ে ভারতে মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নামাজেও বাধা দেওয়া হয়। অথচ উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা প্রকাশ্যে ঘৃণার স্লোগান দিলেও তাদের থামাতে কোনও আইন প্রয়োগ করা হয় না। এ থেকেই বুঝা যায় ভারতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা কত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

সাংবাদিক সুচেতা দালাল ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে আইনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কুনাল কামরার আইনজীবীরা এই ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করলে ভাল হয়, যাতে বোঝানো যায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে কতটা পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে।’ সাংবাদিক ও লেখক রাহুল পান্ডিতা মন্তব্য করেন, এক সময়ের আনন্দময় রাম নবমী উৎসব আজ ঘৃণা ও সহিংসতায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই উগ্রপন্থীরা এখন আওরঙ্গজেবকেই রামের চেয়ে বেশি মনে রাখে।’

এদিকে পর্যবেক্ষক রামানদীপ সিং মান ঐতিহ্যবাহী রাম নবমী উদযাপনের সঙ্গে এই ঘৃণার স্লোগানের বিস্তর পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রাম নবমীর প্রকৃত রীতি ছিল প্রার্থনা, উপবাস ও আধ্যাত্মিক ভাবনা। অথচ এখন এই উৎসব ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’

আমাদের ফলো করুন