বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৩৬ মিলিয়ন ডলার কমেছে। ঋণ পরিশোধের চাপ, টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণের সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণগ্রহীতারা আগেই ঋণ পরিশোধ করছেন। এতে বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ সবচেয়ে বেশি কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ৬৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর তিন মাস আগে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর শেষে এই পরিমাণ ছিল ১০৪ দশমিক ৩৭৪ বিলিয়ন ডলার।
মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে সরকারি খাতের ঋণ কমেছে ২১১ মিলিয়ন ডলার। ডিসেম্বর শেষে সরকারি খাতের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ২১৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে গত সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ৮৪ দশমিক ৪২৭ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই খাতে ঋণের পরিমাণ ৫২৫ মিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪২৫ বিলিয়ন ডলার। গত সেপ্টেম্বর শেষে এই পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৪৭ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি ঋণের খরচও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণের সুদহার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো আগে আগেই ঋণ পরিশোধে ঝুঁকছে। ফলে বৈদেশিক ঋণের চাপ কিছুটা হলেও কমেছে।
করোনার সময়ে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের সুদহার কম থাকায় অনেক বেশি ঋণ নিয়েছিল দেশের ব্যবসায়ীরা। তখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ছিল স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে। তবে করোনা পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকে, সঙ্গে যুক্ত হয় ডলারের দামের অস্থিরতা। একই সাথে বেড়ে যায় বৈদেশিক ঋণের সুদহার। ফলে নতুন করে ঋণ না নিয়ে আগের ঋণ পরিশোধে মনোযোগ দেয় ব্যবসায়ীরা। এতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণও কমে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ নেমে এসেছে ১০ দশমিক ১৩১ বিলিয়ন ডলারে। অথচ সেপ্টেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য এই ঋণ নেয় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো। মূলত যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য আমদানিকারকেরা বিদেশি ঋণ নেয়, যা ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ নামে পরিচিত। আবার আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোও বিদেশি উৎস থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সংগ্রহ করে থাকে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কেমন থাকে, তার ওপর আগামী মাসগুলোতে ঋণের চিত্র নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।