পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং কারাবন্দি সদস্যদের মুক্তির দাবিতে সাবেক বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবারের আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বুধবার রাত ৮টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক সম্মেলনে তারা বৃহস্পতিবার ‘শাহবাগ ব্লকড’ এবং পরবর্তী সময়ে ‘মার্চ টু কোর্ট’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা পদযাত্রার মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল এবং কারাগারে থাকা ‘নিরপরাধ’ জওয়ানদের মুক্তি। এছাড়া তারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘সেনা হত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান এবং জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রে বিডিআর সদস্যদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্য ভবন, কাকরাইল ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করেন। পরে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সন্ধ্যায় অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে চলে যান।
বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন থেকে ফিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহিন সরকার বলেন, আমরা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দাবিতে শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। যদি কোন ন্যায়বিচারের ইঙ্গিত না পাওয়া যায়, বৃহস্পতিবার আমরা শাহবাগ ব্লকড করব। আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
বিডিআর ৪৬ ব্যাচের সদস্য কেএ রাজ্জাক বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত আমরা শহিদ মিনারে অপেক্ষা করব। ন্যায়বিচারের কোন আভাস না পেলে শাহবাগ ব্লকড হবে।
সাবেক বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবার তাদের দাবিতে অটল অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ‘শাহবাগ ব্লকড’ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।







