স্বামীর অবস্থা জানতে ইসরায়েলি নারীর অনুরোধ, হামাসের ভিডিও বার্তা প্রকাশ

স্বামীর অবস্থা জানতে ইসরায়েলি নারীর অনুরোধ, হামাসের ভিডিও বার্তা প্রকাশ
স্বামীর অবস্থা জানতে ইসরায়েলি নারীর অনুরোধ, হামাসের ভিডিও বার্তা প্রকাশ। ছবি: আল জাজিরা

ইসরায়েলের সাবেক বন্দি শ্যারন কোনিও তার স্বামী ডেভিড কোনিওর খোঁজ চেয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম বিগ্রেডের কাছে একটি ভিডিও প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কাসসাম বিগ্রেড সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে মুক্তি পান শ্যারন। তার স্বামী ডেভিড এখনো গাজার বন্দিদশায় রয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় শ্যারন কাসসাম বিগ্রেডের কাছে তার স্বামীর বর্তমান অবস্থা জানার জন্য একটি ভিডিও প্রকাশের আহ্বান জানান।

কাসসাম বিগ্রেডের প্রকাশিত ভিডিওতে শ্যারনের বার্তার অংশ দেখানো হয়। এতে শ্যারন, তার স্বামী এবং তাদের দুই সন্তানকে দেখা যায়। সেই সাথে বন্দি বিনিময়ের দৃশ্যও দেখানো হয়।

ভিডিওতে কাসসাম বিগ্রেড আরবি, হিব্রু এবং ইংরেজি ভাষায় একটি বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ‘তোমার স্বামী ডেভিড, তোমার মুক্তির পর সামরিক চাপ বৃদ্ধির কারণে হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে অথবা সে ভালো আছে। কিন্তু নেতানিয়াহু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।’

ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে কাসসাম বিগ্রেড একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তিনটি ভাষায় শ্যারনকে একটি বার্তা দেওয়া হয়, যেখানে লেখা থাকে, ‘শিগগিরই… সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হামাস জানায়, দখলদার ইসরায়েলের হামলায় তাদের হাতে আটক থাকা ৩৩ জন ইসরায়েলি বন্দি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কারণে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত কয়েক মাসে কাসসাম বিগ্রেড এবং ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা বন্দিদের ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব ভিডিওতে বন্দিরা তাদের সরকারকে বন্দি বিনিময়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের একটি সম্প্রচার সংস্থা জানিয়েছে, বন্দি বিনিময়ের দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রগতি করতে ইসরায়েল রাজি হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দোহায় এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। নেতানিয়াহুর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং রাফাহ করিডোর খোলা না রাখার দাবিই এই ব্যর্থতার মূল কারণ।

অন্যদিকে হামাস পুরো গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। তবে তারা কোনো চুক্তি মানবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

আমাদের ফলো করুন