গাজায় মৃত্যুর ফাঁদ: ছড়িয়ে আছে হাজারো অবিস্ফোরিত বোমা

গাজায় মৃত্যুর ফাঁদ: ছড়িয়ে আছে হাজারো অবিস্ফোরিত বোমা
গাজায় মৃত্যুর ফাঁদ: ছড়িয়ে আছে হাজারো অবিস্ফোরিত বোমা। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গাজা উপত্যকার প্রতিটি কোণ যেন এখন একটি জীবন্ত মৃত্যুকূপ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় ছড়িয়ে পড়েছে হাজার হাজার অবিস্ফোরিত বোমা ও গোলাবারুদ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই গোলাবারুদগুলো সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিরাপদ করে তুলেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তে মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা এসব অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ব্যবহার করে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করছে কিনা। কারণ, গত সপ্তাহে উত্তর গাজায় একটি বোমা বিস্ফোরণে তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী গাজায় প্রায় ৩০ হাজার বোমা নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে অনেক বোমা এখনও বিস্ফোরিত হয়নি। এসবের মধ্যে এমন কিছু বোমাও রয়েছে, যেগুলোর ওজন এক টনের মতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছিল, তার কিছুতে গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটির কারণেই অনেক বোমা নিক্ষেপের পরও বিস্ফোরিত হয়নি।

জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের (ইউএনএমএএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজার মাটিতে আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ টন অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ জমা হয়েছে। এই গোলাগুলোর পুরোপুরি অপসারণ করতে ১৪ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গাজার বাসিন্দারা প্রতিদিন এই বোমারু অঞ্চলে জীবনযাপন করছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—প্রত্যেকেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শুধুই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে না, এটি তাদের মানসিক চাপও বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত অস্ত্র দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা না গেলে গাজার মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে। তবে এত দীর্ঘমেয়াদি অপসারণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে রয়েছে বহু অনিশ্চয়তা।

আমাদের ফলো করুন