উত্তর গাজায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকারে কৌশল পরিবর্তন ইসরায়েলের

উত্তর গাজায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকারে কৌশল পরিবর্তন ইসরায়েলের
উত্তর গাজায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকারে কৌশল পরিবর্তন ইসরায়েলের। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

উত্তর গাজায় একের পর এক ক্ষয়ক্ষতির মুখে কৌশল পরিবর্তন করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গতকাল শনিবার উত্তর গাজার বেইত হানুনে সংঘটিত এক সংঘর্ষে চার সেনা নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন রিজার্ভ কর্মকর্তা এবং অন্য তিনজন ‘নাহাল’ বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পত্রিকা মাআরিভ

গতকাল শনিবার ১১ জানুয়ারি রাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, গাজার বেইত হানুনে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে চার সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

এই ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনীর ‘গাজা ডিভিশন’ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়। মারিভ জানায়, সেনাবাহিনী এখন থেকে কোন ভূখণ্ডে অগ্রসর হওয়ার আগে আরও বেশি গোলাবারুদ ছোড়ার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ড্রোন এবং তাপগতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কার ও বিস্ফোরক শনাক্ত করার কৌশল নিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজার উত্তরে অবস্থিত হামাসের শেষ ব্যাটালিয়ন ধ্বংস করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা মনে করছে, এখন হামাস যোদ্ধাদের পেছনে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই তারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।

মাআরিভ আরও জানায়, বেইত হানুনে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাবর্তনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের প্রস্তুতিতে রয়েছে শত শত ক্যামেরা বসানো, ঘরবাড়ি এবং রাস্তাগুলোতে বিস্ফোরক স্থাপন, অ্যান্টি ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য গোপন আস্তানা এবং স্নাইপারদের জন্য উপযুক্ত অবস্থান তৈরি করা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বেইত হানুনে পুনরায় প্রবেশের পর হামাসের এই কৌশলগুলোর মুখোমুখি হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হামাসের প্রতিরোধ ভাঙতে তাদের কার্যক্রম আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। এদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘গাজা ডিভিশন’ শনিবারের ঘটনার পর রাতে অভিযানের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, কারণ তারা মনে করে, রাতে ইসরায়েলি বাহিনী তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী।

গত ৫ অক্টোবর গাজার উত্তর অংশে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে এবং আরও শতাধিক আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় মার্কিন সমর্থনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এতে ১ লাখ ৫৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি হতাহতের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া, ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। পাশাপাশি গাজার পুরো অঞ্চলজুড়ে মারাত্মক খাদ্য সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এরই মধ্যে গত বছরের ২১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আমাদের ফলো করুন