রাজস্থানের বারমের জেলার গুডামালানি থানা এলাকায় ১০ জানুয়ারি একটি বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। শ্রবণ মেঘওয়াল নামে এক দলিত যুবককে গাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় একদল লোক তাকে এই নৃশংসতার শিকার করে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মেঘওয়াল কান্নাকাটি করে দয়া ভিক্ষা করছেন, কিন্তু তবুও তার ওপর নির্মম অত্যাচার চলতে থাকে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
বারমের থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) মুক্তা পারিক জানান, মেঘওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ থেকে ছয়জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বারমের পুলিশ সুপার নরেন্দ্র সিং মীনা জানিয়েছেন, মেঘওয়ালকে এর আগেও মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে পুরোনো অভিযোগটি আবার সামনে আসার পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনা ভারতের বর্ণভিত্তিক সহিংসতার এক করুণ উদাহরণ। প্রান্তিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এই হামলা। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্যটির স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার পর বারমের জেলা প্রশাসনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হয়েছে।
ঘটনাটি দেশে বর্ণভিত্তিক সহিংসতার পুনরুত্থান নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই নৃশংস ঘটনা দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা রক্ষায় সমাজ ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর







