মিয়ানমারের কাচিনে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫

মিয়ানমারের কাচিনে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫
মিয়ানমারের কাচিনে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শনিবার সকালে দেশটির কাচিন রাজ্যের তানাইং শহরের একটি ব্যস্ত মার্কেটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সোনার খনিতে কাজ করা শ্রমিক ও স্থানীয় দোকানদারও রয়েছেন।

সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানিয়েছে, বেলা ১১টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। কেআইএর মুখপাত্র কর্নেল নাও বু সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের সবাই বেসামরিক। আহতদের মধ্যে আরও তিনজন পরে মারা গেছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। চারপাশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পুরো এলাকাটি ধ্বংস হয়ে গেছে।

কাচিন রাজ্যের বড় অংশই বিদ্রোহী গোষ্ঠী কেআইএর নিয়ন্ত্রণে। প্রায় ৭ হাজার সদস্যের এই গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন এবং খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। কাচিনের মাটি রত্নপাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের জন্য বিখ্যাত। এর বেশিরভাগই চীনে রপ্তানি হয়।

জান্তার ক্ষমতা দখলের পর থেকে সংঘাত বৃদ্ধি

২০২১ সালে জান্তা বাহিনীর অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত অং সান সুচির সরকার বিদ্রোহীদের সহায়তায় পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) গড়ে তোলে। জান্তার অভিযোগ, কেআইএ পিডিএফকে অস্ত্র সরবরাহ করে।

এর আগে, ৯ জানুয়ারি পশ্চিম রাখাইনে জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হন।

জাতিসংঘের মতে, মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ মানুষের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

মিয়ানমারের এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দেওয়া জরুরি। সংঘাতের অবসান এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আমাদের ফলো করুন