গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার বা তার আগেই এতে স্বাক্ষর হতে পারে।
গতকাল সোমবার ১৩ জানুয়ারি ফিলিস্তিনি একটি সূত্র তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানায়, পরিস্থিতি যদি বর্তমান অবস্থায় থাকে, তবে চুক্তি স্বাক্ষর খুব দ্রুত হবে। এটি সম্ভবত শুক্রবারের আগেই হতে পারে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তি অনুমোদনের জন্য দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা (ক্যাবিনেট) মঙ্গলবার বৈঠকে বসতে পারে। এই বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, চুক্তিটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে:
১. প্রথম ধাপটি ৪০ থেকে ৪২ দিনের মধ্যে শেষ হবে। এই ধাপে ইসরায়েল নেটজারিম ও ফিলাডেলফিয়া করিডোরে অবস্থান বজায় রাখবে।
২. এক সপ্তাহ পর হামাস ইসরায়েলি বন্দিদের তালিকা দিবে।
৩. ইসরায়েল বাস্তুচ্যুতদের উত্তর গাজায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিবে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল নেটজারিম করিডোরের একটি অংশ থেকে সরে আসবে। এতে উত্তর গাজায় ফেরত আসা মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
পায়ে হেঁটে ফেরত আসা মানুষদের কোন তল্লাশি করা হবে না। তবে গাড়িতে ফেরত আসা ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হবে। এটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
সূত্রগুলো জানায়, দখলদার ইসরায়েল শুরুতে ১৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে একটি নিরাপত্তা করিডোর চেয়েছিল। তবে আলোচনার পর ১০০০ মিটারে সমঝোতা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল ৩৪ জন বন্দির একটি তালিকা হামাসের কাছে দিয়েছে। এর মধ্যে আটজন সৈনিক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, হামাস এই তালিকা প্রত্যাখ্যান করবে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, আট সৈন্যের জন্য ভিন্ন শর্তে আলোচনা হতে পারে।
একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের পর গ্রেপ্তার হওয়া সব বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এর বিনিময়ে আট সৈন্যকে মুক্তি দেওয়া হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি







