বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অপসারণের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আজ বুধবার ১৫ জানুয়ারি বিকেল পর্যন্ত এই পিটিশনে প্রায় ২,৪০০ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
১৩ জানুয়ারি বিশ্বের বৃহত্তম পিটিশন প্ল্যাটফর্ম ‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’-তে ‘অ্যাক্ট নাও বাংলাদেশ’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন এই পিটিশন চালু করে। সংগঠনটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে থাকে।
ফেসবুকে পিটিশনের লিংক শেয়ার করে সংগঠনটি লিখেছে, ‘দয়া করে স্বাক্ষর করুন এবং শেয়ার করুন। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শাসনব্যবস্থার সমর্থনে কাজ করায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ডব্লিউএইচও থেকে অপসারণের দাবিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য নেতৃত্বে সততা এবং নিরপেক্ষতা রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মায়ের সরকার, অর্থাৎ সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে তাদের পক্ষ থেকে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় অসংখ্য আহত ও নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় অনেক আহত ব্যক্তি পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাননি।’
পিটিশনে আরও বলা হয়, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার নীতির প্রতি সায়মা ওয়াজেদের প্রকাশ্য সমর্থন ডব্লিউএইচও-এর নিরপেক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
সায়মা ওয়াজেদকে ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে পিটিশনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নেতৃত্বের জন্য সততা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। সায়মা ওয়াজেদের মায়ের শাসনব্যবস্থার প্রতি তার সমর্থন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতির সঙ্গে স্বার্থের বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় তার পদে থাকা অনুচিত।
মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পিটিশনটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দ্রুতই স্বাক্ষরের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এই ঘটনায় ডব্লিউএইচও বা সায়মা ওয়াজেদের পক্ষ থেকে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পিটিশনটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।