১৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে লুৎফুজ্জামান বাবর

১৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে লুৎফুজ্জামান বাবর
১৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে লুৎফুজ্জামান বাবর। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাসের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কারামুক্ত হয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। দুপুর পৌনে ২টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। বাবরের মুক্তির খবরে কারাগারের সামনে সকাল থেকেই ভিড় করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ফুলের মালা ও উচ্ছ্বাস নিয়ে তারা স্বাগত জানান তাদের নেতাকে।

বাবরের মুক্তি প্রসঙ্গে তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

কারাগার থেকে বের হয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর প্রথমেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করার পরিকল্পনা করেছেন। এরপর তিনি গুলশানের বাসায় যাবেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার একটি অংশে বাবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় থেকে খালাস দেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে বাবরের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা থেকে তিনি মুক্তি পান।

২০০৭ সালের ২৮ মে গ্রেপ্তার হওয়া বাবরকে একাধিক মামলায় দণ্ড দেওয়া হয়। দুটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং একটি মামলায় দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার মামলা পুনরায় আপিল শুনানি হয়। এসব শুনানির ফলে একে একে সব মামলায় তিনি খালাস পান।

বাবরের মুক্তির খবরে তার নিজ এলাকা নেত্রকোনা-৪ আসনসহ আশপাশের এলাকায় উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য তোরণ। এলাকার মানুষ দলে দলে ঢাকায় এসে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

দীর্ঘ সময় ধরে কারাবাসে থাকা লুৎফুজ্জামান বাবর তার আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক জীবনে ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বাবরের মুক্তি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য নয়, তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের মধ্যেও এক নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে।

আমাদের ফলো করুন