আজই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করছে ইসরায়েল

আজই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করছে ইসরায়েল
আজই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করছে ইসরায়েল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে ইসরায়েল ও হামাস একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আলোচনার পর আজ শুক্রবার ১৭ জানুয়ারি ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় চুক্তিটি অনুমোদিত হবে। সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো।

আগামী রোববার ১৯ জানুয়ারি থেকে চুক্তি কার্যকর হতে যাচ্ছে। চুক্তিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং হামাসের হাতে আটক বন্দিদের মুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তি ঘিরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

চুক্তির পেছনের গল্প

আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর প্রধান ভূমিকা রেখেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আলে সানি জানান, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর চুক্তি কার্যকর হবে। কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিসর এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যুদ্ধবিরতির আগে সংঘাতকবলিত গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে শহীদ হয়েছেন ৪৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। শহিদদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

চুক্তির ধাপসমূহ

চুক্তিটি তিন ধাপে কার্যকর হবে:

১. যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি: গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাবে এবং হামাসের হাতে আটক ৩৩ বন্দির মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
২. দীর্ঘমেয়াদি শান্তি: ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং বন্দিদের মুক্তির বিষয় নিয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে।
৩. গাজার পুনর্গঠন: গাজার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পুনর্গঠন শুরু হবে।

তৎপরতা এবং শর্ত

চুক্তি কার্যকরের আগ মুহূর্তেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত বুধবার এক হামলায় শহিদ হন অন্তত ৮৭ জন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চুক্তির সব শর্ত মেনে চলতে ইসরায়েল ও হামাস উভয়পক্ষকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাবে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো প্রতিদিন গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবে।

ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি অংশ চুক্তির বিরোধিতা করলেও সরকার শিগগিরই সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে চুক্তি কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তি কার্যকরের পরেও গাজার পুনর্গঠন এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আমাদের ফলো করুন