ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের তেল আবিব, এলাত এবং আশকেলন শহরে হামলা চালানোর দাবি করেছে। পাশাপাশি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে বলেও জানিয়েছে।
হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহইয়া সাইর এক বিবৃতিতে জানান, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রথম অভিযানে ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এলাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দ্বিতীয় অভিযানে আশকেলন শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। তৃতীয় অভিযানে তেল আবিবের ইয়াফা অঞ্চলে তিনটি ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এছাড়া, হুথি নৌবাহিনী লোহিত সাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটি গত কয়েক মাসে রণতরীটির ওপর সপ্তম হামলা বলে দাবি করা হয়েছে।
হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের আমরান প্রদেশের হারফ সুফইয়ান অঞ্চলে পাঁচটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
হুথি বিদ্রোহীরা আরও জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সব জাহাজকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। ইয়াহিয়া সাইর বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। গাজায় আক্রমণ হলে উপযুক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’
এদিকে হুথি নেতা আবদুল মালেক আল-হুথি বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর রাখতে তারা প্রস্তুত। তবে ইসরায়েল যদি এই চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে তারা সামরিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি ও মিত্র দেশগুলোর জাহাজে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতার প্রতিবাদেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি







