গাজা উপত্যকায় আহতদের চিকিৎসায় অংশ নিতে দুই হাজারেরও বেশি মিশরীয় চিকিৎসক স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রস্তুত রয়েছেন। মিশরের চিকিৎসক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. উসামা আব্দুল হাই এই তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণার পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিশর ইতোমধ্যে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে অপেক্ষমাণ রয়েছে ত্রাণবাহী অসংখ্য ট্রাক। আহতদের চিকিৎসায় মিশরের হাসপাতাল ও চিকিৎসক দলগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মিশরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. খালেদ আব্দুল গাফার কায়রোতে একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে উত্তর সিনাইয়ের হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে আল-আরিশ, বীর আল-আবদ এবং শেখ জুয়াইদ এলাকার হাসপাতালগুলোর জরুরি চিকিৎসা ইউনিট ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিশরের চিকিৎসক সমিতি গাজায় সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তারা মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণবাহী কাফেলা প্রস্তুত করছে। চিকিৎসক সমিতি দ্রুত গাজার স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছে।
তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক চিকিৎসকদের মুক্তি দেওয়া হয়। গাজার হাসপাতালগুলোতে কাজ করার সময় এসব চিকিৎসক আটক হন।
মিশরের চিকিৎসক সমিতি জানায়, গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন থেকেই তারা ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। ত্রাণ কাফেলা প্রস্তুত এবং চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাসেবী হতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
গাজার জনগণের প্রতি মিশরের এই মানবিক সহায়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিশরীয় চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সূত্র: আরটি অ্যারাবিক