বাংলাদেশের যুব সমাজকে মাদকাসক্ত করে ধ্বংসের মিশনে নেমেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সম্প্রতি কক্সবাজারের সমুদ্রসীমায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ এই গোষ্ঠীর ছয় সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত ১৫ জানুয়ারি গভীর রাতে বিজিবি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। অভিযানের সময় দুই কেজি মেথামফেটামিন, ১০,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট, অল্প পরিমাণ গাঁজা, চারটি মোবাইল ফোন এবং পাচারে ব্যবহৃত একটি নৌকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান।
এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। ২০১০ সাল থেকে আরাকান আর্মি মাদকপাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে যুব সমাজকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি মাদক থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে তারা তাদের দাবিকৃত এলাকা পুনরুদ্ধারে ব্যবহার করছে।
অবৈধ মাদক ও মানবপাচারের ব্যবসা চালাতে আরাকান আর্মি স্থানীয় দালালদের সঙ্গে রোহিঙ্গা খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ মগ এবং পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। এছাড়া তাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তারা।
বিজিবির এই সফল অভিযানে মাদক চোরাচালানের বড় একটি চালান আটক হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের মিশন বন্ধ করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। একই সঙ্গে এই চক্রের সাথে জড়িত স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াও জরুরি।
উল্লেখ্য, মাদকপাচারের এই চক্রান্ত বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।







