ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে গাজার সিভিল ডিফেন্সের ২৭ জন সদস্য আটক রয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর গাজার সিভিল ডিফেন্স পরিচালক আহমেদ আল-কাহলুতসহ তিনটি কেন্দ্রের পরিচালক রয়েছেন। তাদের অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার ২০ জানুয়ারি গাজার সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ১৬ মাসে ইসরায়েলি হামলায় তাদের ৯৭ জন সদস্য শহীদ এবং ৩১৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
সিভিল ডিফেন্স আরও জানায়, গাজার সব প্রদেশ থেকে তারা ৩৮ হাজারেরও বেশি নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই হতাহতের ঘটনা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধের সময় থেকে ঘটে আসছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজার উত্তরাঞ্চল এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তারা আরব ও আন্তর্জাতিক সিভিল ডিফেন্স টিমকে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, আমাদের টিম ২২ হাজার ৪০৩টি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেছে। এসব অগ্নিকাণ্ড মূলত জনবহুল এলাকা, বাণিজ্যিক ভবন, কৃষিজমি এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৪২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্সের তথ্য মতে, প্রায় ২,৮৪০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এমন রয়েছেন যাদের দেহাবশেষ এখনো পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সেনারা এমন অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ৭,০০০ থেকে ৯,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করে বিস্ফোরণস্থলের সবকিছু গলিয়ে দেয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আমাদের সামনে এখনো ১০,০০০-এর বেশি নিহতের মরদেহ খুঁজে বের করার বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন এবং এখনো নিহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।
সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলের বহু স্থানে তাদের উদ্ধার কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এসব এলাকায় এখনো শত শত মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৪৭০ দিনের যুদ্ধের পর গাজার সিভিল ডিফেন্সকে পুনর্গঠন করে প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সামাল দিতে এটি অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েল মার্কিন সমর্থনে গাজা উপত্যকায় যে গণহত্যা চালিয়েছে তাতে ১,৫৭,০০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী। এ ছাড়া ১১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি







