কুলাউড়ায় সীমান্তে ভারতীয়দের হামলা, এক বাংলাদেশি নিহত

একই পরিবারের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করল ভারত
একই পরিবারের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করল ভারত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় নাগরিকদের হামলায় সীমান্তে আবারও প্রাণ হারালেন এক বাংলাদেশি। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে ঢুকে আহাদ আলী (৩৪) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় নাগরিকেরা। রোববার দুপুরে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের দশটেকি (নতুন বস্তি) এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ আলী কুলাউড়ার এওলাছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় আহাদ আলীর। এরই একপর্যায়ে হায়দার আলীসহ কয়েকজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৮৩-এর ৩৪ এস-এর ৫ গজ ভেতরে ঢুকে আহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত আহাদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আফসার বলেন, নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকারীরা ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাইদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। একই মাসে ১২ জানুয়ারি লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিএসএফের গুলিতে আহত হন শহিদুল ইসলাম (৪২)। একই মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত হন হাবিল উদ্দিন।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বিএসএফের গুলিতে ২৮৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বারবার ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তে সহিংসতা বন্ধে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের ফলো করুন