মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা যেন থামবার নামই নিচ্ছে না। আপাতত সংঘর্ষ না হলেও যেকোনো সময় পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে কার্যকরভাবে শত্রু মোকাবিলার কৌশল খুঁজছে বিভিন্ন দেশ। এতে একদিকে যেমন যুদ্ধের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে কমবে প্রাণহানি।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন এক লেজার অস্ত্র প্রকাশ্যে এনেছে ইরান, যা প্রচলিত যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের প্রথম ‘পিনপয়েন্ট লেজার বোম্ব সিস্টেম’ উন্মোচন করেছে।
ইসরায়েলের হুমকির বিপরীতে ইরানের জবাব
ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের জন্য এক টন ওজনের প্রায় ২ হাজার বোমার চালান অনুমোদন করেছেন। এতে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে তৎপর হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার শঙ্কাকে কেন্দ্র করেই তারা সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এবং নতুন অস্ত্র প্রদর্শন করছে।
ইরানের নতুন লেজার অস্ত্র কতটা শক্তিশালী
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সামরিক মহড়ায় প্রথমবারের মতো এই লেজার অস্ত্রের প্রদর্শনী হয়। এটি যে কোনো পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থায় বেশ কার্যকর। এটি যেমন শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানতে পারে তেমনিভাবে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালাতেও সক্ষম।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের লেজার প্রযুক্তি
লেজার অস্ত্রের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো দেশ বহুদিন ধরে গবেষণা চালাচ্ছে। তাদের তৈরি অস্ত্র দিয়ে ড্রোন, হেলিকপ্টার, মর্টার শেল ও রকেট ধ্বংস করা সম্ভব। তবে এসব অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা থাকায় আরও শক্তিশালী লেজার প্রযুক্তির উন্নয়ন চলছে। এমনকি যুদ্ধবিমানেও লেজার অস্ত্র বসানোর পরিকল্পনা চলছে।
এদিকে রাশিয়াও পিছিয়ে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তারা স্থলে মোতায়েনযোগ্য লেজার অস্ত্র তৈরির কাজ করছে। সফল হলে এটি শত্রুর স্যাটেলাইট অকার্যকরও করে দিতে সক্ষম হবে।
লেজার অস্ত্রের ভবিষ্যৎ
লেজার অস্ত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যুদ্ধের ব্যয়কে সাশ্রয়ী করা। প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে হামলা প্রতিহত করতে যেখানে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়, সেখানে লেজার অস্ত্র ব্যবহার করলে খরচ মাত্র কয়েক ডলারে নেমে আসে।
ইরানের নতুন অস্ত্র আসলেই কার্যকর কি না, তা এখনো প্রমাণ হয়নি। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।







