ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ ইসরায়েলি বিমান হামলায় শহিদ হয়েছেন। হামাস এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মোহাম্মদ দেইফ ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান টার্গেট ছিলেন। গত বছর জুলাই মাসেই ইসরায়েল তার শহিদ হওয়ার দাবি করেছিল। তবে এতদিন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি হামাস। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেইফের শাহাদাতের খবর নিশ্চিত করল।
মোহাম্মদ দেইফ হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দীন কাসসাম ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি এতটাই গোপনীয়তা বজায় রেখে চলতেন যে, ঘনিষ্ঠ সহচরদের বাইরে কেউই তার সঠিক অবস্থান জানত না। এই কারণে তাকে ‘দ্য মাস্টারমাইন্ড’ বলা হতো। অন্যদিকে, ইসরায়েলিরা তাকে ডাকত ‘দ্য ক্যাট উইথ নাইন লাইভস’ নামে।
ইসরায়েল বহুবার তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত চলাকালে দেইফকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, তবে তাতে ব্যর্থ হয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগেও অন্তত সাতবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
ছাত্র থেকে হামাস নেতা
এই মহান বীর ১৯৬০ সালে গাজার খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেন। এরপর সেখানে দেইফ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি অভিনয় ও থিয়েটারের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং একটি নাট্যদলও গঠন করেছিলেন। তবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনে আকৃষ্ট হয়ে তিনি ১৯৮০ সালে হামাসে যোগ দেন।
১৯৮৯ সালে ইসরায়েল তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বিনা বিচারে ১৬ মাস কারাগারে রাখে। এরপর তিনি হামাসের সামরিক শাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।
মোহাম্মদ দেইফের অন্যতম বড় কৃতিত্ব হলো হামাসের প্রাধান অস্ত্র ‘কাসসাম রকেট’ তৈরির পরিকল্পনা। এই রকেট হামাসের প্রতিরোধ যুদ্ধে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া গাজার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গপথ তৈরির মূল পরিকল্পনাকারীও তিনি ছিলেন। এই সুড়ঙ্গপথগুলো হামাস যোদ্ধাদের গোপনে ইসরায়েলে প্রবেশে সহায়তা করত।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মাসের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪৭,৪৬০ জন ফিলিস্তিনি শহিদ হয়েছেন।
এদিকে ১৯ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় ১৫ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বিনিময়ে ৪০০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে বিনা অপরাধে বন্দি ছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা