মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণে ৩,০০০-এর বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে পারি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ত্রাণকর্মীরা।
গত সোমবার সাগাইংয়ের তামু টাউনশিপে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং তাদের মিত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে।
তামু শহর মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের অংশ, যেখানে মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ বর্মি জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থীরা ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)-এর নেতৃত্বে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) গঠন করে। এরপর থেকেই এই অঞ্চলে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
জানুয়ারির শুরু থেকে তামু টাউনশিপের ৩,০০০-এর বেশি বাসিন্দা সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা ভারতের মণিপুর রাজ্যের সীমান্তের প্রায় ২৪ কিলোমিটার (১৫ মাইল) ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণকর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে তামুর হ্তান তা পিন ও পান থার গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত সেনা ক্যাম্পে তীব্র লড়াই চলছৈ বলে জানিয়েছেন পিডিএফ-এর এক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘এই সামরিক ক্যাম্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রায় ৪০০ জান্তা-সমর্থিত যোদ্ধা অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে পিউ সও হতি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছে। আমরা প্রথমে হ্তান তা পিনে হামলা চালাচ্ছি, এরপর পান থার গ্রামে অগ্রসর হব। একবার এটি দখল হলে তামু নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।’
চলমান এ সংঘর্ষে বহু সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন পিডিএফ কর্মকর্তা। তিনি জানান, এ পর্যন্ত বিদ্রোহী বাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য নিহত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এখনো সঠিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জান্তা সেনাবাহিনী সেখানে একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। গত জানুয়ারির ১৬ তারিখের এক হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়, যাদের মধ্যে একজন শিশু ছিল। এছাড়া জানুয়ারির ২০ ও ২১ তারিখের রাতেও বিমান হামলা চালানো হয়।
তামুর এক বাসিন্দা আরএফএ-কে বলেন, আমরা এখানে দুই সপ্তাহ ধরে আছি। সীমান্তের কাছেই মণিপুরের একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঘর ভাড়া নিচ্ছে, আর বাকিরা তাঁবুতে থাকছে। আমাদের টিকে থাকার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদের কাছ থেকে ধার নিয়ে চলা।
সূত্র: রেডিও ফ্রি এশিয়া







