মিয়ানমারের প্রতারণা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশিসহ ২৫০ বিদেশির মুক্তি

মিয়ানমারের প্রতারণা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশিসহ ২৫০ বিদেশির মুক্তি
মিয়ানমারের প্রতারণা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশিসহ ২৫০ বিদেশির মুক্তি। ছবি : বিবিসি

মিয়ানমারের কারেন রাজ্যে অবস্থিত একাধিক প্রতারণা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশিসহ ২৫০ জন বিদেশিকে মুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় দেশটির একটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। পরে থাই সেনাবাহিনী তাদের গ্রহণ করে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তারা মানব পাচারের শিকার হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রতারণা কেন্দ্র বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর থাই সরকার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতারকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং ব্যাংকিং ও ভিসা নীতিতে কঠোরতা আনে।

এই প্রতারণা চক্র সাধারণত বিদেশিদের ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডে নিয়ে আসত। পরে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে পাঠিয়ে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হতো। মূলত ইংরেজি ও চীনা ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিদের টার্গেট করে এই প্রতারণা চালানো হতো।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বন্দি ব্যক্তিদের দিয়ে ‘পিগ বুচারিং’ নামে পরিচিত প্রেমের ফাঁদ, ক্রিপ্টো প্রতারণা, অর্থ পাচার ও অবৈধ জুয়ার মতো কাজ করানো হতো। কেউ কেউ স্বেচ্ছায় এসব কাজে যুক্ত থাকলেও অনেককে বন্দি রেখে মুক্তিপণের জন্য তাদের পরিবারের ওপর চাপ দেওয়া হতো।

ডেমোক্রেটিক কারেন বেনেভোলেন্ট আর্মি (ডিকেবিএ) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৬০ জনকে মুক্ত করে। এদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ ২০টি দেশের নাগরিক রয়েছেন।

এদিকে থাইল্যান্ডের বিশেষ তদন্ত বিভাগ কারেন ন্যাশনাল আর্মির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারেন অঞ্চলের কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এই প্রতারণা চক্রকে নিরাপত্তা দিত।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে কারেন রাজ্যে ‘শ্বে কোক্কো’ নামে একটি শহর তৈরি করা হয়। যদিও শহরটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, এখন সেখানে কোনো প্রতারণামূলক কার্যক্রম নেই। তবে স্থানীয়রা বলছেন, কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এই অভিযানের পর থাই-চীন চাপের মুখে প্রতারণা চক্র সরানোর ঘোষণা দিয়েছে ডিকেবিএ ও কারেন ন্যাশনাল আর্মি। পাশাপাশি মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আমাদের ফলো করুন