বাবরি মসজিদের মত মথুরা ও কাশ্মীর মসজিদ ভাঙার হুমকি উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতার!

বাবরি মসজিদের মত মথুরা ও কাশ্মীর মসজিদ ভাঙার হুমকি উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতার!
বাবরি মসজিদের মত মথুরা ও কাশ্মীর মসজিদ ভাঙার হুমকি উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতার! ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের হিন্দুত্ববাদী নেতা ও বিজেপির সাবেক বিধায়ক সংগীত সোম সম্প্রতি মথুরা ও বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার হুমকি দিয়েছে। হোলি উদযাপন উপলক্ষে মীরাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাবরি মসজিদের মতোই এই মসজিদগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে হিন্দুত্ববাদী জনতার হাতে।

সংগীত সোম বলেন, মসজিদ ভাঙার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপের দরকার নেই। তিনি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনতার মাধ্যমেই এসব মসজিদ সরিয়ে ফেলা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের ও বারাণসীতে ভোলেশংকরের মন্দির নির্মাণের জন্য এই মসজিদগুলো ভাঙতে হবে।

মীরাঠের সভায় সংগীত সোম উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, তারা তার বক্তব্য সমর্থন করেন কি না। উত্তরে সমবেত জনতা উচ্ছ্বসিতভাবে হাত তুলে সমর্থন জানায় এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয়। তিনি আরও বলেন, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব হিন্দুদের ওপর যে ‘নিপীড়ন’ চালিয়েছিলেন এবং মন্দির ধ্বংস করেছিলেন, সেই ‘ঐতিহ্য’ মুছে ফেলতেই এই উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তব্যের সময় তার উগ্র হিন্দুত্ববাদী সমর্থকরা গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে তাকে স্বাগত জানায় এবং উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান দেন। সংগীত সোম দাবি করে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মাধ্যমে বাবরের ‘উত্তরাধিকার’ মুছে ফেলা হয়েছে, এবার আওরঙ্গজেবের ‘নাম-নিশানা’ মুছে ফেলার পালা।

এটি প্রথম নয়, এর আগেও সংগীত সোম সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। ২০১৩ সালের মুজাফফরনগর দাঙ্গার অন্যতম উসকানিদাতা হিসেবে তার নাম উঠে আসে। ওই দাঙ্গায় ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল।

দাঙ্গার পর তাকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচারপতি বিষ্ণু সাহাই কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, সংগীত সোম দাঙ্গা উসকে দেওয়ার মূল অভিযুক্তদের একজন। ২০১৭ সালেও তিনি দাঙ্গা-সম্পর্কিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য আইনি জটিলতায় পড়েন।

২০২২ সালে তিনি গৌতম বুদ্ধ নগরের এক জনসভায় ঘৃণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় জননিরাপত্তা লঙ্ঘনের দায়ে তাকে জরিমানাও করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সংগীত সোমের সাম্প্রতিক বক্তব্য হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিস্তৃত এজেন্ডারই অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতে মুসলিম ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। বিজেপির অনেক নেতা প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করলেও সংগীত সোমের বক্তব্য আদালতকে পাশ কাটিয়ে জনতার মাধ্যমে ‘অবস্থান পরিবর্তনের’ বার্তা দিচ্ছে, যা আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

আমাদের ফলো করুন