ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে সহিংসতার ঘটনায় শুক্রবার আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১০৫-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০ জন শিশুও রয়েছে। স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে, অথচ প্রকৃত উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত ১৭ মার্চ নাগপুরে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় এক গুজব কেন্দ্র করে যে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর এক বিক্ষোভের সময় কোরআনের একটি আয়াত লেখা চাদর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ভিএইচপির বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল, ছত্রপতি সাম্ভাজীনগর জেলায় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি তোলা।
স্থানীয় মুসলিমগণ এই ঘটনাকে তাদের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে, যার ফলে নাগপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পাথর নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নাগপুর পুলিশের কমিশনার রবীন্দ্র কুমার সিংঘল জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নতুন ৩টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ, পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। মুসলিমদের গ্রেপ্তার করা হলেও উসকানিদাতা ভিএইচপি সদস্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পুলিশ কারফিউ জারি করলেও গত বৃহস্পতিবার ২০ মার্চ নন্দনভন ও কপিল নগর থানা এলাকায় দুপুর ২টা থেকে আংশিকভাবে কারফিউ শিথিল করা হয়। লাকড়গঞ্জ, পাচপাওলি, শান্তিনগর, সাক্কারদারা ও ইমামবাড়া এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য (বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত) কারফিউ শিথিল করা হয়, যাতে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারে।
এই সহিংসতায় ৩৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মূল অভিযুক্ত হিসেবে মুসলিম তরুণ ফাহিম খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই একতরফাভাবে মুসলিমদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা মুসলিমদের দমন করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
এদিকে নাগপুরের একটি স্থানীয় আদালত ১৭ জন মুসলিমকে ২২ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানায়, অভিযোগের গুরুত্ব ও পুলিশের উপস্থাপিত তথাকথিত ‘প্রমাণ’ বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নাগপুরের মুসলিমদের সাথে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া নির্বিচারে গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে, যা দেশের সংখ্যালঘুদের জন্য ভয়াবহ সংকেত বহন করে।
সূত্র: এমএম







