সুদানে শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসী আরএফএসের বর্বরোচিত হামলায় শহিদ ১০০

সুদানে শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসী আরএফএসের বর্বরোচিত হামলায় শহীদ ১০০
সুদানে শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসী আরএফএসের বর্বরোচিত হামলায় শহীদ ১০০। ছবি: সংগৃহীত

সুদানের উত্তর দারফুরের আকাশে আবারও বারুদের গন্ধ। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষগুলোর আশ্রয়স্থলও এখন রক্তাক্ত। কারণ, শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন বেসামরিক মানুষ। যাদের মধ্যে রয়েছে শিশুসহ ত্রাণকর্মীরাও।

এই নির্মম হামলা আল ফাশেরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জমজম ও আবু শোরুক শিবিরে চালানো হয়। টানা দুই দিন ধরে চলা তাণ্ডবে প্রাণ হারান ২০ শিশু ও ৯ জন ত্রাণকর্মী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়ক ক্লেমেন্টাইন এনকোয়েটা সালামি বলেন, ‘এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত সহিংসতা। দুর্ভিক্ষ আর সংঘাতের মাঝে মানবিক সহায়তা নিতে আসা নিরীহ মানুষদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।’ তিনি সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও ৫ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়তে পারেন।

দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শিগগিরই জরুরি বৈঠকে বসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সন্ত্রাসী আরএসএফ প্রধান মোহাম্মেদ হামদান দাগালোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিহতদের তালিকায় আছেন জমজম ক্যাম্প হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ বাবাকের ইদ্রিস এবং রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান আদম বাবাকের আবদুল্লাহ। এ ছাড়া নিহত বাকি ৭ জন ত্রাণকর্মীর মধ্যে রয়েছেন নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও লজিস্টিকস স্টাফ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে এখনো থেমে নেই সহিংসতা। দুর্ভিক্ষ আর গুলির শব্দ মিলে তৈরি হচ্ছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। বিশ্ব এখন তাকিয়ে—কবে থামবে এই রক্তপাত?

আমাদের ফলো করুন