সিরিয়ার ইতিহাসে হোমস শহর এক দুঃখজনক অধ্যায়ের নাম। এই শহরটি বহুবার সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আসাদ পরিবারের শাসন এখানে ব্যবহার করেছে চরম নিষ্ঠুরতার নীতি, যা আজও মানুষের মনে ভীতিকর স্মৃতি হয়ে আছে।
জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংসের নীতি
হোমস শহরের জনগণের জন্য ১৯৮২ সালের ঘটনাগুলো ছিল বিভীষিকাময়। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তখন শহরটিকে সম্পূর্ণ অবরোধ করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় পানীয় জল ও বিদ্যুৎ। কোনো ধরনের খাবার বা ওষুধ সরবরাহের সুযোগ ছিল না। একই সঙ্গে জারি করা হয় কারফিউ।
শহরের ভেতরে বিদ্রোহী ইসলামী যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ যখন তীব্রতর হয়, তখন বাহিনী ‘জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংসের নীতি’ অনুসরণ করে। নির্বিচারে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয় আবাসিক ভবন। কোনো পার্থক্য করা হয়নি বেসামরিক লোক ও যোদ্ধাদের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তাগুলো লাশে ভরে গিয়েছিল। হাজারো মানুষ প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ কেউ আশ্রয় নেয় ভূগর্ভস্থ কক্ষে।
স্বৈরশাসনের গোড়াপত্তন :
এই ভয়াবহতার শুরু হয়েছিল আরও আগে। ১৯৬৪ সালে হোমসে ‘সুলতান মসজিদ ঘটনা’র মাধ্যমে আসাদ শাসনের দমননীতির প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান বহু বেসামরিক।
১৯৭০ সালে হাফেজ আল-আসাদ ক্ষমতা দখল করার পর একদলীয় শাসনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। গ্রেপ্তার অভিযান, অত্যাচার এবং বিদ্রোহীদের ওপর চরম নিপীড়ন চালানো হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি সশস্ত্র শাখা, ‘তালিয়াহ মুকাতিলা’, গড়ে ওঠে। তারা সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে শুরু করে। ১৯৭৯ সালে আলেপ্পোর আর্টিলারি স্কুলে তাদের পরিচালিত একটি হামলায় বহু আলাওয়ি সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
১৯৮২: এক নির্মম গণহত্যার স্মৃতি
১৯৮২ সালে হোমসে সংঘটিত গণহত্যা আসাদ পরিবারের নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত উদাহরণ। দমননীতি প্রয়োগ করে সরকারি বাহিনী পুরো শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এই ঘটনা আজও সিরিয়ার মানুষের মনে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়েছে।
হোমসের ঘটনা শুধুমাত্র একটি শহরের ধ্বংস বা দমনপীড়নের ইতিহাস নয়; এটি এক নিষ্ঠুর শাসনব্যবস্থার প্রতীক, যা আজও গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইরত মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।







