ইসরায়েলের ‘সাম বাহান’ অভিযান: সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ধ্বংসে নতুন ষড়যন্ত্র!

ইসরায়েলের ‘সাম বাহান’ অভিযান: সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ধ্বংসে নতুন ষড়যন্ত্র!
ইসরায়েলের ‘সাম বাহান’ অভিযান: সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ধ্বংসে নতুন ষড়যন্ত্র! ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

সিরিয়ার সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পরপরই ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সিরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় এবং স্থলবাহিনী গোলান মালভূমির সীমান্তবর্তী নিরস্ত্র অঞ্চল দখল করে।

ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানকে ‘সাম বাহান’ নাম দেওয়া হয়েছে, যা কিনা তাওরাত থেকে প্রভাবিত হয়ে রাখা হয়। এ নাম রাখার ফলে, দক্ষিণ সিরিয়ার অঞ্চলকে ইসরায়েলের প্রভাবাধীন এলাকায় পরিণত করার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে। গোলান মালভূমির এই নিরস্ত্র অঞ্চলটি প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রস্থে ১০ কিলোমিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

এ অঞ্চলে বহু গ্রাম ও শহর রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো তারানজা, জাবাতা আল খশব, ওফানিয়া, কুনাইতারা এবং আল হামিদিয়া। ১৯৭৪ সালে সিরিয়া-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই এলাকাগুলো নিরস্ত্র করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এখন চুক্তি বাতিল করে এই অঞ্চলে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী তাদের স্থল অভিযানের পাশাপাশি সিরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এসব হামলায় সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে!

তুরস্কের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। তিনি সিরিয়ায় দখলদার ইসরায়েলের এই কার্যক্রমকে একটি আরব দেশের স্থিতিশীলতা ধ্বংসের প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তুরস্কের সংসদে ২০২৫ সালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট আলোচনা চলাকালে বলেছেন, দখলদার ইসরায়েল এখন সিরিয়ার জনগণের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দখলদার ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান মূলত তাদের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি নির্মূলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের আসল লক্ষ্য সিরিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা।

সিরিয়ায় দখলদার ইসরায়েলের চক্রান্ত

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনটি প্রধান কৌশলের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে:
১. গোলান মালভূমি ও সংলগ্ন নিরস্ত্র অঞ্চল দখল করা।
২. সিরিয়ার কৌশলগত সামরিক ক্ষমতা ধ্বংস করা।
৩. পিকেকে/ওয়াইপিজি সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতা করে ইরানের প্রভাব মোকাবেলা করা।

দখলদার ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের এই অভিযান সিরিয়ার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আল বরিক জানিয়েছেন, ইসরায়েল তার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইসরায়েলকে একটি সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আমাদের ফলো করুন