ভারতের লোকসভার সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তরবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধীর রঞ্জন বলেন, মৌলবাদ কোন ঠুনকো বিষয় নয়! এটি অনেকটা ক্যানসারের মতো, যা সময়মত দমন না করলে পুরো বাংলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভারতও এ সমস্যার মুখে পড়বে।
তিনি দাবি করেন, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বেশ কিছু অঞ্চল ভবিষ্যতে ওপার বাংলার অংশ হিসেবে দাবি করতে পারে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অধীর চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের সময় মুর্শিদাবাদ দুই দিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, তখন মুর্শিদাবাদে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং তারা অঞ্চলটিকে পাকিস্তানের বলে দাবি করেছিল। আজও মুর্শিদাবাদে মুসলিমরা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। এটি সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
অধীর রঞ্জন বলেন, বাংলায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সমস্যা চলছে, তা এই বাংলাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ। যদি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হয়, তাহলে এই অঞ্চল যেকোন সময় বাংলাদেশের অংশ হয়ে যেতে পারে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত মনে করছেন, আবার কেউ কেউ সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগকে সমর্থন করছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে অধীর চৌধুরীর এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।







