দখলদার ইসরায়েলি বসতকারীদের আগুনে পুড়ল সলফিটের মসজিদ

দখলদার ইসরায়েলি বসতকারীদের আগুনে পুড়ল সলফিটের মসজিদ
টঙ্গীতে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যান চলাচল বন্ধ, বিকল্প পথে চলার আহ্বান। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

অধিকৃত পশ্চিম তীরের সলফিটের নিকটবর্তী মারদা গ্রামে ইসরায়েলি বসতকারীরা গতকাল শুক্রবার ভোর বেলায় একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বসতকারীরা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মসজিদটিতে আগুন ধরায় এবং দেয়ালে বিদ্বেষপূর্ণ স্লোগান লিখে রেখে যায়।

আগুনে মসজিদের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, স্থানীয়দের উদ্যোগে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। মসজিদের দেয়ালে ‘আরবদের মৃত্যু হোক’ লেখা স্লোগান পাওয়া গেছে!

মারদা এলাকা

মারদা গ্রামটি ‘আরিয়েল’ নামে পরিচিত একটি ইসরায়েলি বসতির আশেপাশে অবস্থিত। এই গ্রামটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে সেখানে প্রবেশদ্বারের নিরাপত্তা বেশ কঠোর করা হয়েছে।

গাজা উপত্যকায় চলমান আগ্রাসনসহ ইসরায়েলি বাহিনী এবং বসতকারীরা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইতোমধ্যে পশ্চিম তীরে ৮২২জন ফিলিস্তিনি শহিদ হয়েছেন এবং প্রায় ৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন।

মারদার বাসিন্দারা এই হামলাকে ভবিষ্যতে আরও হামলার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন এবং তারা মনে করছেন, এটি ইসরায়েলি সরকারের উস্কানি ও অপরাধীদের নিরাপত্তা প্রদানের ফল। স্থানীয় বাসিন্দা ইসমত আল-খফশ জানান, ‘আমরা ভোরে যখন ঘুম থেকে উঠি, তখন দেখি বসতকারীরা মসজিদের দরজা ভেঙে ভেতরে আগুন ধরিয়েছে। মসজিদটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েলি রাজনীতি ও সেনাবাহিনী কট্টরপন্থী বসতকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে।

এই হামলাকে ‘নৃশংস এবং উগ্রপন্থী সংস্কৃতির প্রতিফলন’ বলে চিহ্নিত করেছেন মারদা গ্রাম পরিষদের প্রধান ফালাহ বদাহ। তিনি বলেন, ‘এটি ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার ইঙ্গিত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে।’

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি এই অপরাধের দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতকারীরা মসজিদ আল আকসায় ২০টি হামলা চালিয়েছে এবং হেব্রনের ইবরাহিমি মসজিদে ৫৫বার আজান বন্ধ করেছে! এছাড়া পূর্ব জেরুজালেমে ২০ বছরের পুরনো শাইয়াহ মসজিদটিও ধ্বংস করা হয়েছে।

আমাদের ফলো করুন