চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধানসহ সব সদস্য ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান, সাবেক মহানগর পিপি ও আইনজীবী আবদুস সাত্তার, গতকাল শুক্রবার কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে কমিটির সদস্য সচিবসহ চার সদস্যও একইভাবে পদত্যাগ করেন।
আবদুস সাত্তার জানান, এই ঘটনা সাধারণ তদন্তকারীদের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য একজন জেলা ও দায়রা জজ পদ মর্যাদার বিচারক দিয়ে তদন্ত করা উচিত।
গত ২৬শে নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় গ্রেপ্তার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও ছয়টি মামলা হয়েছে।
পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তার বলেন, ঘটনার দিন প্রিজন ভ্যানে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস পুলিশের মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দেন। এক ঘণ্টার মধ্যে মামলার নথিপত্র সংগ্রহের মতো অস্বাভাবিক ঘটনাও ঘটেছে। এতে প্রমাণ হয়, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।







