উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার আওতায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, এবং সেনা সরবরাহ করা হয়েছে। এই চুক্তি রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, উত্তর কোরিয়া এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়াকে ১০০টি KN-23 ব্যালিস্টিক মিসাইল, ২০,০০০ কনটেইনার গোলাবারুদ, এবং কয়েক ডজন Koksan স্বচালিত কামান ও M-1991 রকেট লঞ্চার সরবরাহ করেছে।
অস্ত্র সরবরাহের জন্য রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে প্রায় $৫.৫ বিলিয়ন প্রদান করেছে। যদিও এই পরিমাণ রাশিয়ার সামরিক প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এছাড়া আনুমানিক ১২,০০০ উত্তর কোরিয়ান সেনা মোতায়েনের জন্য রাশিয়া $৫৭৬ মিলিয়ন ব্যয় করেছে। এ হিসাবে প্রতিজন সেনার জন্য খরচ পড়েছে $৪৮,০০০।
তবে অর্থের বিনিময়ে এই সহযোগিতার বাইরেও একটি বড় দিক রয়েছে। রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে বিশেষভাবে সহায়তা করছে। KN-25 মিসাইল সিস্টেম আধুনিকীকরণে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে।
উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার এই চুক্তি তাদের সামরিক সহযোগিতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহের ঘাটতি পূরণে উত্তর কোরিয়ার এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পাশাপাশি, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল বাস্তবায়ন করছে। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়া কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলো উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
সূত্র: The Wall Street Journal







