মহারাষ্ট্রে ইসকন সন্ন্যাসী কর্তৃক নারীকে যৌন নিপীড়ন, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিলে জনগণ

মহারাষ্ট্রে ইসকন সন্ন্যাসী কর্তৃক নারীকে যৌন নিপীড়ন, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিলে জনগণ
মহারাষ্ট্রে ইসকন সন্ন্যাসী কর্তৃক নারীকে যৌন নিপীড়ন। ছবি : সংগৃহীত

মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার বাসাই এলাকার ইসকন মন্দিরে কর্মরত এক সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে কাজ করা এক মহিলাকে নিয়মিত অশ্লীল মেসেজ, ছবি ও ভিডিও পাঠানোর অভিযোগে ওই সন্ন্যাসীকে স্থানীয় হিন্দুরা বেধড়ক মারধর এবং জুতাপেটা করে। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সন্ন্যাসী দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরে কর্মরত এক মহিলাকে আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। মহিলাটি এই পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে বিষয়টি তার পরিবারের কাছে জানান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানার পর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিচ্ছেন। এ ঘটনায় সমগ্র ভারতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শ্রী কিষ্ণ পাল। তিনি বলেছেন, বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্রে এমন গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও বিজেপি, আরএসএস কিংবা প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো কেন বিষয়টি নিয়ে চুপ রয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, এই ধরনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা না করা এবং মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে ভোটব্যাংক বাড়ানোর প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যারা প্রচারণায় সরব, তারা নিজ দেশে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় সম্পূর্ণ নীরব।

উল্লেখ্য, ইসকন সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও ইসকনের প্রতিষ্ঠাতাসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এই কারণেই বহু দেশে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

এ ঘটনার পর ইসকনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এই ঘটনা ইসকনের ভাবমূর্তির উপর কতটা প্রভাব ফেলবে এবং স্থানীয় প্রশাসন এ নিয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা এখন দেখার বিষয়।

আমাদের ফলো করুন